Post# 1458407006

19-Mar-2016 11:03 pm


বুস্তামের জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তি হযরত আবু ইয়াযীদ বুস্তামীর মজলিসে সর্বক্ষণ উপস্থিত থাকত৷

একদিন সে আরয করল, "আমি ত্রিশ বছর ধরে অবিরাম রোযা রাখছি এবং রাত জেগে নফল এবাদত করছি৷ কিন্তু এত সাধনা সত্বেও আপনি যে জ্ঞান বর্ণনা করেন, তা নিজের অন্তরে বিদ্যমান পাই না৷ অথচ আমি এই জ্ঞানকে সত্য বলে বিশ্বাস করি এবং ভালবাসি৷"

হযরত আবু ইয়াযীদ বললেন, "ত্রিশ বছর কেন, যদি তুমি তিনশ বছরও রোযা রাখ এবং রাত্রি জাগরণ কর, তবু এই জ্ঞানের কণা পরিমাণও পাবে না৷"

লোকটি এর কারণ জিজ্ঞাসা করলো।

তিনি বললেন, "কারণ এই যে, তুমি নিজের নফসের কারণে আল্লাহ তা’আলা থেকে আড়ালে আছ৷"

লোকটি আরয করল, "তাহলে এর প্রতিকার কি?"

তিনি বললেন "প্রতিকার আছে। কিন্তু তুমি তা কবুল করবে না৷"

সে বলল, "আপনি বলুন, যাতে আমি তা পালন করতে পারি৷"

তিনি বললেন, "এখনি নাপিতের কাছে গিয়ে মাথা ও দাড়ি মুণ্ডন কর৷ এই পোশাক খুলে কম্বলের লুঙ্গি পরিধান কর৷ ঘাড়ে আখরুটের একটি ঝুলি তুলে নাও৷ রাস্তায় গিয়ে নিজের চারপাশে লোকজনকে জড়ো কর৷ এরপর তাদেরকে বল যে কেউ আমাকে একটি থাপ্পড় মারবে, আমি তাকে একটি আখরুট দেব৷ এমনিভাবে প্রত্যেক বাজারে যাও এবং যারা তোমার পরিচিত, তাদের কাছেও যাও এবং থাপ্পড় খেয়ে থেয়ে আখরল্ট বিলি কর৷"

লোকটি বলল, "সােবহানাল্লাহ, আপনি আমাকে এমন কথা বললেন!"

তিনি বললেন, "তোমার সোবহানাল্লাহ বলা একটি শিরক৷ কারণ, তুমি নিজের নফসকে বড় জেনে সােবহানাল্লাহ বলেছ৷ আল্লাহ তা’আল[র তাযীমের জন্যে বলনি৷"

লোকটি বলল, "আমি এটা করব না৷ অন্য কিছু বলুন৷"

তিনি বললেন, "সর্বাগ্রে এটাই করা দরকার৷"

সে বলল, "এটা করার সাধ্য আমার নেই৷"

হযরত আবু ইয়াযীদ বললেন, "আমি তাে আগেই বলেছিলাম যে, তুমি প্রতিকার কবুল করবে না৷"

- এহইয়াউ উলুমুদ্দিন, অহংকার আর আত্মম্ভরিতা বিষয়ে।

    Comments:
  • কিভাবে? উত্তরে দক্ষিনে হলে কি হতো?
  • এই দলটা বাংলাদেশেও আসছে। Get ready.

19-Mar-2016 11:03 pm

Published
19-Mar-2016