Post# 1446299242

31-Oct-2015 7:47 pm


তাহাজ্জুদ পড়ার একটি নিয়ম:

প্রথমতঃ ঈশার নামাজের পর পরই শুয়ে পড়তে হবে। নাইট পার্টি, টিভি দেখা বাদ।

রাতে যখনই ঘুম ভাঙ্গবে উঠে বসে তর্জনি তুলে পড়তে হবে

"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু
লাহুল মুলক ওয়ালাহুল হামদ
ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির"

এর পর সে যা দোয়া করবে তা কবুল হবে বলে একটি হাদিসে আছে। ফেসবুকে শায়েখ আসিম হাকেম একবার বলেছিলেন উনি এই ভাবে দোয়া করে সবসময় কবুলিয়াত পান।

ওজু করে ঘুমের পোষাক ছেড়ে ভালো পোষাক পড়ে নামাজে দাড়াতে হবে।

এই দোয়া পড়তে হবে যদি মুখস্ত থাকে। মুখস্ত না থাকলে প্রথম দুই তিন লাইন মুখস্ত করে শুধু সেটুকু পড়তে হবে। এর পর অতটুকু ভালো মত মুখস্ত হয়ে গেলে এর পরের কয়েক লাইন মুখস্ত করে নিতে হবে, এভাবে।

اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ
أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ
وَلَكَ الْحَمْدُ
، لَكَ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ
وَلَكَ الْحَمْدُ
أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ
وَلَكَ الْحَمْدُ
أَنْتَ الْحَقُّ،
وَوَعْدُكَ الْحَقُّ،
وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ،
وَقَوْلُكَ حَقٌّ،
وَالْجَنَّةُ حَقٌّ،
وَالنَّارُ حَقٌّ،
وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ،
وَمُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم حَقٌّ،
وَالسَّاعَةُ حَقٌّ،
اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ،
وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ،
وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ،
وَبِكَ خَاصَمْتُ،
وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ،
فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ،
وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ،
أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ،
لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

এই দুয়াটা বুখারি শরিফে আছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাহাজ্জুদের আগে পড়তেন।

http://sunnah.com/bukhari/19/1

সংক্ষেপে দুই রাকাত নামাজ পড়ে নিতে হবে। তাহাজ্জুদের নামাজ আরম্ভ করার আগে রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রথমে দুই রাকাত নামাজ সংক্ষেপে পড়ে নিতেন। কাফিরুন ও ইখলাস দিয়ে সংক্ষেপে নামাজ পড়া যায়।

দুই রাকাত নামাজ পড়ার পর হাদিসে বর্নিত "শয়তানের তিনটি গিটের" তিনটাই খুলে যাবে।

এর পর তাহাজ্জুদের নামাজ আট রাকাত পড়তে হয়। দুই রাকাত দুই রাকাত করে। চার রাকাতের পর একটু বিশ্রাম দোয়া তসবিহ। মিনিমাম চার রাকাত, মেক্সিমাম বারো রাকাত।

অপটিমাম হলো এই আট রাকাতে কোরআন শরিফ থেকে ১ পারা পড়া। এটা ঐ হাদিস থেকে এসেছে যেখানে রাসুলুল্লাহ ﷺ একজন নওজোয়ান সাহাবিকে উপদেশ দিয়েছিলেন

"তুমি মাসে এক খতম কোরআন শরিফ পড়বে।" উনি জবাব দিয়েছিলেন "যদি এর থেকে বেশি পড়তে পারি?"... এভাবে হাদিসটি। ঐ সাহাবী এর থেকে বেশি পড়তেন। কিন্তু শেষ জীবনে এসে আফসোস করতেন ইশ যদি আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর কথাটাই তখন মেনে নিতাম।

রমজান মাসে কাবা শরিফে প্রতি রাকাতে ২ পৃষ্ঠা করে ১০ রাকাত পড়া হয়। এ ভাবে এক পারা। হাফেজি কোরআন শরিফের ২০ পৃষ্ঠায় এক পারা হয়। এটাও একটা ভালো সিসটেম।

কিরাত নিজ কানে শোনা যায় এমন উচু স্বরে পড়া। যদি কারো ঘুমের কষ্ট না হয়।

দ্রুত তিলওয়াতে এক পারার বেশি পড়ার থেকে একটু ধীর স্থির ভাবে এক পারা পড়া ভালো।

কিন্তু ১ পারা কুরআন শরিফ যদি মুখস্ত না থাকে? মুখস্ত করে নিতে হবে। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সময় দিলে এক বছরে ১ পারা ইনশাল্লাহ যে কেউ মুখস্ত করে নিতে পারবে। দুই বছরে দুই পারা মুখস্ত হলে তাহাজ্জুদের জন্য যথেস্ট।

নামাজ শেষে বিতির। বিতিরের তিন রাকাত নামাজে যথাক্রমে
১। সুরা সাব্বিহিসমা
২। সুরা কাফিরুন আর
৩। সুরা ইখলাস পড়া।

তৃতীয় রাকাতের দোয়া কুনুতের পর দোয়াকে ইচ্ছামত লম্বা করা যায়।

বিতিরের পর আবারো সংক্ষেপে দুই রাকাত পড়ে নামাজ শেষ করা। এটা অপশনাল।

সব মিলিয়ে সোয়া ১ ঘন্টার মত সময় লাগবে।

শেষ রাতে পড়তে চাইলে রাত দেড়টার পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত সময়। ঘুমাতে যাবার আগে রাত বারোটা বেজে গেলে নামাজ পড়ে একবারে শুতে যেতে হবে।

এই নামাজের ব্যপারে একটা মত হলো, যারা তাহাজ্জুদ পড়ে না তাদের জন্য এটা নফল। কিন্তু যারা নিয়মিত পড়ে তাদের জন্য এটা ওয়াজিব হয়ে যায়। তাই রেগুলারিটি মেন্টেইন করা জরুরী।

#HabibDua

    Comments:
  • Chowdhury Saima Ferdous

31-Oct-2015 7:47 pm

Published
31-Oct-2015